এত কাছে তবু এত দূর!

অঝোরে কাঁদছেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ককে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ঠোঁটে অদ্ভুত একটা হাসির রেখা। চিকচিক করতে থাকা চোখ আর ওই হাসি মিলিয়ে এমন একটা বেদনার্ত ছবি, যা হূদয়কে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়।একটু আগেও প্রাণোচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা মিরপুর স্টেডিয়ামে তখন শ্মশানের নীরবতা। সারি সারি শোকস্তব্ধ মুখ। এত কাছে, তবু এত দূর…!

তীরে এসে তরীডুবি। হতাশা, বিষণ্ন বাংলাদেশ কোনো সান্ত্বনাই পাচ্ছিল না।

তীরে এসে তরীডুবি। হতাশা, বিষণ্ন বাংলাদেশ কোনো সান্ত্বনাই পাচ্ছিল না। – ছবি: শামসুল হক

মিরপুরে তো মাত্র হাজার পঁচিশেক দর্শক। পুরো দেশই তো কাল ‘মিরপুর’! বিজয়োৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় প্রতিটি প্রহর গোনা। উল্টো মুশফিকের কান্না ছোঁয়াচে হয়ে ভিজিয়ে দিল কোটি কোটি চোখ। স্বপ্নের মৃত্যু এমন কষ্ট হয়েই বাজে বুকে!
এর মধ্যেই হঠাৎ মিরপুরের গ্যালারি থেকে আবার ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকার ওঠে। মাত্র ৩ রানের জন্য হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে স্বপ্নটা, তাতে কি আর সাকিব-তামিমদের কীর্তি মিথ্যা হয়ে যায়! কান্না-হাসির দোল দোলানো এই এশিয়া কাপ দিয়েছেও তো কম নয়। ভেজা চোখের হাজারো দর্শকের করতালিতে সেই কৃতজ্ঞতা। হয়নি, তাতে কী! তার পরও তোমরা বীর। তোমাদের অভিবাদন!
পুরস্কার বিতরণী শেষে হঠাৎ মিরপুরের সব আলো নিভে যায়। মাঠে লেজারের আলো পড়ে। আকাশে শুরু হয় আতশবাজির খেলা। বাংলাদেশ জিতলে গ্যালারি তখনো পূর্ণই থাকত। হেরেছে বলে সেটি তখন ভাঙা হাট। প্রায় শূন্য সেই গ্যালারির ওপর আতশবাজি নেচে নেচে বেড়ায় আর অনুচ্চারে বলতে থাকে, স্বপ্ন আর বাস্তব জীবনে খুব কমই মেলে!
আবেগকে নির্বাসনে পাঠিয়ে শুধু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখলে কী দুর্দান্ত একটা ফাইনালই না হলো! শেষ বলে নিষ্পত্তি। যে বলে বাংলাদেশের দরকার চারটি রান! কিন্তু হায়! উইকেটে তখন ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন। তা হোক, ব্যাটের কানায়-টানায় লেগেও তো কত চার হয়ে যায়! হলো না। হলো মাত্র এক রান। মাহমুদউল্লাহ হতাশায় বসে পড়লেন মাঠে। চোখে অবিশ্বাস নিয়ে বিমূঢ় তাকিয়ে দর্শকেরা। হঠাৎ নেমে আসা স্তব্ধতায় মিরপুর স্টেডয়াম যেন এক প্রেতপুরী।
শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮৪ রানের। শেষ ৫ ওভারে ৪৭। ৪৭তম ওভারে ১৪ রানে হঠাৎই সমীকরণটা অনেক সহজ—শেষ ৩ ওভারে ২৫ রান। হতে হতেও যা হলো না। ৮ বলে ১৮ করে ফেলার পর মাশরাফির আউটটাকে তখন মনে হতে থাকল অনেক বড়! আফসোস হয়ে আরও কত ‘যদি’-ই না তখন উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে! ইশ্, তামিম যদি আর চারটা ওভার থাকতেন অথবা সাকিব! সাকিব আউট হওয়ার দুই বল পরই যদি মুশফিক আউট হয়ে না যেতেন! ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ হওয়ার বদলে ছয়ও তো হয়ে যেতে পারত ওই শটটি! তা হলেই তো হয়ে যায়!
হয়ে যায় নাজিমউদ্দিন ৫২ বলে ১৬ রানের ওই অতিপ্রাকৃত ইনিংসটি না খেললে! অথবা নাসির ২৮ রান করতে ৬৩ বল লাগিয়ে না ফেললে! আরেকটু পিছিয়েও গেল অনেকের মন—শাহাদাত শেষ ওভারে এসে অমন দানছত্র খুলে না বসলেও তো হতো। শেষ ওভারে দুটি নো বলসহ ১৯ রান। ম্যাচের ময়নাতদন্তে সেটিই হয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের চৌকাঠ থেকে বাংলাদেশের শূন্য হাতে ফিরে আসার কারণ।
সাকিব বরাবরের মতোই দুর্দান্ত। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৮১ হয়ে যাওয়ার পর নেমে ৭২ বলে ৬৮। এর আগে বোলিংয়ে ২ উইকেট। এশিয়ার বাকি তিন পরাশক্তির কত বড় বড় তারাকে মিটমিটে করে দিয়ে টুর্নামেন্ট-সেরার আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে দামি অলংকার।
তামিমের ব্যাট থেকে টানা চতুর্থ ম্যাচে পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস। ব্যাটিংয়ের মতো তাঁর উদ্যাপনেও অনেক উদ্ভাবনী ব্যাপার থাকে। কাল যেমন হাফ সেঞ্চুরি করার পর এক এক করে হাতের চারটি আঙুল দেখিয়ে মনে করিয়ে দিলেন, টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে এটি তাঁর চতুর্থ ফিফটি। সঙ্গে কি এটাও নয় যে, এশিয়া কাপের দল থেকে তাঁকে বাদই দিয়ে দিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি!
ফাইনাল জিতলে ট্রফি নিয়ে উদ্যাপনটাও হয়তো ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু সেটি আর দেখা হলো কই! শেষে এসে যে চোখের জলেই স্বপ্নের সমাধি। অথচ ফাইনালটা শুরু থেকেই যেন এগোচ্ছিল বাংলাদেশের পছন্দমতো পাণ্ডুলিপি মেনে। আগের দুই ম্যাচে রান তাড়া করে জয়। জয়ের পাপড়ি ছড়ানো পথেই যাত্রা শুরু করতে টস জেতাটা খুব জরুরি ছিল। মুশফিকুর ঠিকই জিতলেন। টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থ ম্যাচে।
বড় ভয় ছিল ‘ফাইনাল’ শব্দটা না বিষম বোঝা হয়ে চেপে বসে মুশফিকুরদের কাঁধে। সেই ভয়ও উধাও উজ্জীবিত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে। একটু পরপরই তাই ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে গলা ফাটানোর সুযোগ পেল দর্শকেরা। দেখতে দেখতে ৩৫তম ওভারে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৩৩।
এর পরও ভয় হয়ে ছিলেন শহীদ আফ্রিদি। টুর্নামেন্টে শুধু নামেই ‘বুম বুম’, আজ কিছু করে ফেলবেন না তো! সরফরাজের সঙ্গে আফ্রিদির জুটিটি জমেও গেল। কিন্তু সংশয়ে-বিপদে বাংলাদেশের উদ্ধারকর্তা হয়ে সাকিব আল হাসান আছেন না! আফ্রিদিকে ফেরালেন তিনি। লং অফে নাসিরের দুর্দান্ত ক্যাচে আবারও যেন ঘোষণা—‘হবে, আজও হবে।’ যদিও সরফরাজের ৫২ বলে অপরাজিত ৪৬, শেষ উইকেট-জুটিতে ৩০ রান আর শাহাদাতের শেষ ওভার মিলিয়ে ইনিংসের শেষে মনে একটা খচখচে অনুভূতি।
তার পরও এই উইকেটে ২৩৬ কোনো রান হলো! মাত্র কদিন আগেই না ২৮৯ তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ! কিন্তু ক্রিকেট-দেবতা যে এই রাতটি অন্যভাবে লিখে রেখেছিলেন। যে রাতে বাংলাদেশ স্বপ্ন ছুঁতে ছুঁতে হারিয়ে ফেলবে!
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৩৬/৯
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৩৪/৮

 

সূত্রঃ প্রথম আলো

রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বাংলাদেশের হার

ঢাকা, মার্চ ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) -এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান করে পাকিস্তান। জবাবে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের অর্ধশতকের পরও ৯ উইকেটে ২৩৪ রানে থেমে যায় বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো সূচনা পায় বাংলাদেশ। নাজিমউদ্দিন নিজেকে গুটিয়ে রাখলেও শুরু থেকে স্বচ্ছন্দে খেলছিলেন তামিম ইকবাল। সপ্তদশ ওভারে ৬৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

শহীদ আফ্রিদিকে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ইউনুস খানের হাতে ধরা পড়েন ৫২ বলে ১৬ রান করা নাজিম। ঐ ওভারেই ৪৮ বলে অর্ধশতকে পৌঁছান তামিম। টুর্নামেন্টে এটি তার চতুর্থ অর্ধশতক। অর্ধশতক উদযাপনের ভঙ্গিও ছিলো অভিনব। চার আঙ্গুল তুলে অর্ধশতকের সংখ্যা জানিয়ে দেন তামিম।

নাজিমের বিদায়ের পর রানের খাতা খোলার আগেই তাকে অনুসরণ করেন জহুরুল ইসলামও। তাই ভালো সূচনার পরও হঠাৎ করে অস্বস্তিতে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

৭ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় সতর্ক হয়ে যান তামিম। দেখে-শুনেই খেলছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই উমর গুলকে পুল করতে গিয়ে ইউনুসের হাতে ধরা পড়েন। ৬৮ বলে খেলা তামিমের ৬০ রানের ইনিংসে ৮টি চার।

তামিমের বিদায়ের পর বাংলাদেশকে রীতিমতো চেপে ধরেন পাকিস্তানের বোলাররা। ২৫ ও ২৬তম ওভারে টানা দুটি মেডেনও হয়।

নাসির হোসেন শুরু থেকে নড়বড়ে থাকলেও চার মেরে রানের খাতা খোলা সাকিব প্রথম থেকেই ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী।

সাকিব ও নাসিরের ৮৯ রানের জুটি ভাঙ্গেন গুল। পুল করতে গিয়ে মিসবাহ-উল-হকের হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় নাসিরের ৬৩ বলে করা ২৮ রানের ইনিংসটি।

তবে সাকিবের উপস্থিতি তখনো স্বপ্ন দেখাচ্ছিলো বাংলাদেশকে। কিন্তু দলীয় ১৭৯ রানে আইজাজ চিমার বলে সাকিব বোল্ড হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ৬৮ রান করা সাকিবের ৭২ বলের ইনিংসটি ৭টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো। এটি টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় অর্ধশতক।

সাকিবের বিদায়ের পর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (৮ বলে ১০ রান) এবং মাশরাফি বিন মর্তুজার (৯ বলে ১৮ রান) দৃঢ়তায় আবার জয়ের আশায় উদ্বেল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৫ রান, আর শেষ ওভারে ৯।

কিন্তু চিমার করা শেষ ওভারে ৬ রানের বেশি নেয়া সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের। ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে চিমাই পাকিস্তানের সেরা বোলার।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দলীয় ১৬ রানেই নাসির জামশেদকে (৯) হারায় তারা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মাশরাফির স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে কাভারে মাহমুদুল্লাহকে সহজ ক্যাচ দেন জামশেদ।

পরের ওভারেই নাজমুল হোসেনের আঘাত। ইউনুস খানকে (১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। মাশরাফি ও নাজমুলের নিখুঁত লাইন-লেন্থের বোলিংয়ে পাকিস্তান তখন বেশ অস্বস্তিতে।

দ্বাদশ ওভারে নাজমুলের বদলে বল করতে আসা আব্দুর রাজ্জাকের হিসেবী বোলিংয়ে অস্বস্তি বেড়ে যায় আরো। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ১১ রানের বিনিময়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হাফিজকে (৪০) ফেরান রাজ্জাক।

এর আগেই অবশ্য নাসির হোসেনের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ। পয়েন্টের দিকে বল ঠেলে একটি রান নিতে চেয়েছিলেন মিসবাহ। কিন্তু ইতস্তত করে পিচের মাঝপথে গতি কমিয়ে দেন। সেটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি নাসির।

হাফিজের বিদায়ের সময় ২২তম ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিলো ৭০/৪। এরপর ৫৯ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরান উমর আকমল ও হাম্মাদ আজম। বাংলাদেশের জন্য বিপদজনক হয়ে ওঠা জুটিটা ভাঙ্গেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবকে ¯¬¬গ সুইপ করতে চেয়েছিলেন আজম (৩০)। কিন্তু ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। পরের ওভারেই আকমলকে (৩০) উইকেটরক্ষক মুশফিকের গ¬¬াভসবন্দী করেন মাহমুদুল্লাহ। এর আগে ২৯তম ওভারের শেষ বল করার সময় গোড়ালিতে চোট পান নাজমুল।

১৩৩ রানে প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে দিশেহারা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি। ২৬তম ওভারে পঞ্চম বোলার হিসেবে এসে একটানা বল করে যাওয়া সাকিব ফেরান আফ্রিদিকে।

সাকিবের ফুলটস এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে নাসিরের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ওয়ানডেতে দ্রুততম শতকের মালিক। মাত্র ২২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কাসহ ৩২ রান করেন আফ্রিদি।

এর পর সাঈদ আজমল (৪) ও উমর গুল (৪) দ্রুত বিদায় নিলে ২০৬/৯-এ পরিণত হয় পাকিস্তান। তবে শেষ ব্যাটসম্যান আইজাজ চিমার সঙ্গে সরফরাজ আহমেদের ৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ২৩৬ রানের সংগ্রহ এনে দেয় তাদের।

এর মধ্যে শাহাদাত হোসেনের করা শেষ ওভারে ১৯ রান তুলে নেন সরফরাজ। ৪৬ রানে অপরাজিত সরফরাজই পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন রাজ্জাক, সাকিব ও মাশরাফি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৩৬/৯ (হাফিজ ৪০, জামশেদ ৯, ইউনুস ১, মিসবাহ ১৩, আকমল ৩০, আজম ৩০, আফ্রিদি ৩২, সরফরাজ ৪৬*, গুল ৪, আজমল ৪, চিমা ৯*; রাজ্জাক ২/২৬, সাকিব ২/৩৯, মাশরাফি ২/৪৮, মাহমুদুল¬¬াহ ১/১৪, নাজমুল ১/৩৬, শাহাদাত ০/৬৩)

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৩৪/৮ (তামিম ৬০, নাজিম ১৬, জহুরুল ০, নাসির ২৮, সাকিব ৬৮, মুশফিক ১০, মাহমুদুল্ল¬াহ ১৭*, মাশরাফি ১৮, রাজ্জাক ৬, শাহাদাত ০*; চিমা ৩/৪৬, আজমল ২/৪০, গুল ২/৬৫, আফ্রিদি ১/২৮, আজম ০/২০, হাফিজ ০/৩০)

ফল: পাকিস্তান ২ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: শহীদ আফ্রিদি

টুর্নামেন্ট সেরা: সাকিব আল হাসান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএনএম/এএআর/২৩০২ ঘ.

কিছু ভূল সিদ্ধান্তের জন্য হেরে গেলাম :( । আশা করি ভবিষ্যতে আমরা অপ্রতিরূদ্ধ হয়ে উঠব ইনশাআল্লাহ …। সারা বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে আমাদের দিকে । সাবাস বাংলাদেশ ……।।
সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪

এশিয়া কাপে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের চতুর্থ ম্যাচে নাটকীয়ভাবে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে, আর সেই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শততম সেঞ্চুরি করেছেন শচীন তেন্ডুলকর।

মূলত তেন্ডুলকরের সেঞ্চুরির সুবাদেই ভারত এদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে বেশ সমীহজনক ২৯০ রানের জয়ের টার্গেট বেঁধে দিতে পেরেছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

পাঁচ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ২৯৩ রান তোলে, তখনও বাকি চার বল।

sakibম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল, ৯৯ বলে ৭০ রান করে তিনিই ইনিংসের ভিত গড়ার কাজটা করেন।

এছাড়া জহুরুল ইসলাম ৫৩, নাসির হোসেন ৫৪ আর সাকিব আল হাসান ৪৯ রান করে বাংলাদেশকে দারুণ একটা জয়ের দিকে এগিয়ে দিতে সাহায্য করেন।

তবে শেষদিকে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের মাত্র ২৫ বলে ৪৬ নট আউটের চমৎকার ইনিংসটা ছাড়া হয়তো জয় বাংলাদশের অধরাই থেকে যেত।

৩১ বলে ৪৯ রান করে সাকিব আল হাসানই ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

tamimদলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল

ম্যাচের শেষে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি স্বীকার করে নেন, বাংলাদেশ দল আগাগোড়া ভারতের চেয়ে তুলনায় ভাল ক্রিকেট খেলেই জিতেছে।

দিনের প্রথমার্ধে শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করে এই ম্যাচেই ক্রিকেটের যে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিলেন শচীন তেন্ডুলকর, ম্যাচে তাঁর দলের পরাজয়ে সেই আনন্দও যেন অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।

মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের মাঠভর্তি দর্শকেরা অবশ্য বোধহয় এদিন তাদের প্রত্যাশার অতিরিক্ত বিনোদনই পেয়েছেন।

তেন্ডুলকর শততম সেঞ্চুরির মুহুর্তে মাঠে থেকে তারা যেমন ক্রিকেট ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছেন, তেমনি দিনের শেষে বাড়ি ফিরেছেন প্রিয় দলের জয়ের আনন্দ নিয়ে!

 

ইন্ডিয়াকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ …। বিশ্বকাপ জয়ের পর যা বলছিল তা জবাব বাংলাদেশ দিয়েছে । তাই ভবিষ্যতে কোনো কমেন্ট করার আগে ১০ বার ভাবতে হবে যে কার বিরুদ্ধে কথা বলতেছে ।। সাবাস বাংলাদেশ …।

সূত্রঃ বিবিসি

সমুদ্রসীমার রায় বাংলাদেশের পক্ষে

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে এক বিরোধে সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের অনুকূলে রায়ে দিয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন।


সমুদ্রসীমা নিয়ে বার্মার সাথে বাংলাদেশের বিরোধের সালিশ নিষ্পত্তি করে হামবুর্গ-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি বা আইটিএলওএস-এর বিচারক বুধবার এই রায় দেন।

জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসুদ মান্নান বিবিসিকে জানিয়েছেন, সালিশে ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশের তরফে যেসব প্রধান দাবি ছিল, আদালতের রায় তার সবগুলোর পক্ষে গেছে।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে বাংলাদেশের সীমানায় খনিজ অনুসন্ধান চালানোর পথ খুলে গেল বলে তিনি জানান।

শুনে খুব ভাল লাগছে । এভাবে আমাদের ন্যায্য পাওনা গুলো আদায় করে নিতে হবে ।

আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত (!!!) এর কাছে আমাদের অনেক ন্যয্য দাবী/পাওনা আছে । সরকার কেন সেদিকে নজর দেয় না সেটা বোধোগম্য নয় …।

আশা করব এবার বাংলাদেশ সরকার খুব দ্রুত ভারতের কাছ থেকেও ন্যায্য পাওনা গুলো বুঝে নিবে ।

 

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

ড্রপবক্স দারুন একটা জিনিস….একবার ব্যাবহার করেই দেখুন …

আমি অনেক ফাইল শেয়ারিং সাইট ব্যাবহার করেছি কিন্তু ড্রপবক্স এর মত কোনো সাইট পাই নাই ।এটা একটা ভার্চুয়াল পেনড্রাইভও বলতে পারেন।এখানে একাউন্ট করে তাদের এপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ইন্সটল করলে এর আসল মজা উপভোগ করতে পারবেন । অনলাইনেও এটা ব্যাবহার করতে পারবেন ইচ্ছা মত ।

আপনি কোনো ফাইল এখানে রেখে দিলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই থাকুন না কেন আপনি সেই ফাইল ব্যাবহার করতে পারবেন । শেয়ারিং ফাইল গুলো অটমেটিক যার কাছে শেয়ার করতেছে তার পিসিতে চলে যাবে (যদি এপ্লিকেশনটা সেটাপ দেওয়া থাকে)

আপনার বন্ধুর শেয়ার করা ফাইলে সে পরে যে ভাবেই এডিট করুক না কেন অটো আপনার পিসিতেউ আপডেট হয়ে যাবে …এক কথায় অসাধারন একটা জিনিস ।

তাদের সাইটের ভিডিওটা দেখলেই বুঝতে পারবেন এইটা কি জিনিস ।

এখানে একাউন্ট খুল্লেই আপনাকে দেওয়া হবে ২ গিগা স্পেস পরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে ৮-১০ গিগা পর্যন্ত স্পেস পেতে পারেন ।

যেমন ধরুন আপনি যদি তাদের টুইটার পেজ লাইক করেন তাহলে আপনাকে ১২৮মেগা এক্সট্রা স্পেস দেওয়া হবে …

তারপর আপনার প্রতি রেফারেল যদি একাউন্ট করে এবং তাদের এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে তাহলে আপনি আরো বোনাস ২৫০ মেগা স্পেস পাবেন এভাবে আপনি ৮ গিগা পর্যন্ত স্পেস পাবেন রেফারেল থেকে …

নিচের টাস্ক গুলো থেকে যেকোনো ৬ টা সম্পন্ন করলে আরো পাবেন ২৫০ মেগা ( আমি লাল ক্রস গুলো করেছি )

 

যাই হোক আর বেশি কিছু বলতে চাই না ব্যাবহার করলেই সব বুঝতে পারবেন … তাদের সাইটে গেলেই আপনি তাদের ভিডিও দেখতে পারবেন এর সুবিধা নিয়ে …।
তাহলে দেরি কেন ? এখনি নিয়ে নিন আপনার ভার্চুয়াল পেন্ড্রাইভ ….:p
আমাকে রেফারেল করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন
আর রেফারেল করতে না চাইলে এখানে
অটঃ আমার এখন ৩.১৩ গিগা হইছে … :p
আমি ভালো লিখতে পারি না তাই ভুল হলে মাফ করবেন(বাংলা লিখতে অনেক কষ্ট :( ) ।
ধন্যবাদ সবাইকে কষ্ট করে পড়ার জন্য ।