‘তূর্ণা নিশিতা’য় স্বপ্ন খোঁজা বালকরা

ছবি: মোশাররফ / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস থেকে: রাত সাড়ে এগারোটা। স্থান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। চট্টগ্রাম, কুমিল্লার গন্তব্যে যাওয়ার জন্যে ‘তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেসে’ উঠতে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি। তবে এখনও ট্রেন ছাড়েনি ছাড়েনি। পরিবারের সকলের আদরের যে শিশুটি ট্রেনের ‘ঠ’ নাম্বার কম্পার্টমেন্টে বসে জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আছে, তার গালের কাছেই চলে আসে আরেকটি শিশুর নরম আদুরে অথচ নোংরা গাল।

কোলের শিশুকে জানলা থেকে সরিয়ে নিয়ে বাবা, নোংরা গালটাকে সাবধানে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয়। যেন হাতে নোংরা না লাগে।

কম্পার্টমেন্ট থেকে নামি কথা বলার জন্যে। কিন্তু ৬-৭ বছর বয়সী শিশুর মুখ থেকে গোঙ্গানো ছাড়া কথা বের হয় না। তবে উঁচু দাতের কারণে মনে হয় সবসময় হেসে আছে। খালি গা। পরনে যে প্যান্ট সেটিকে দড়ি দিয়ে কোনরকমে আটকে রাখা হয়েছে। প্যান্টের পেছনের কিয়দাংশ ছেঁড়া থাকলেও তাতে শরম পাওয়ার ক্ষমতা নেই বাক প্রতিবন্ধী শিশুটির। শুধু ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে থাকতে আর মানুষের কাছে হাত পাততেই শিখেছে ও।

পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল ১২ বছরের আরেক শিশু। নাম রাকিব।

রাকিব জানাল, বাক প্রতিবন্ধী এ শিশুটির নাম সুজন। সবাই এ নামেই ডাকে তাকে।

রাকিব বলে, বাবা-মার পরিচয় নাই ওর। এমনি ঘুইরা বেড়ায়।

রাকিবের মা থাকেন গাবতলী। মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করেন।

ছোট হাতের ফাঁকে সিগারেটের আগুন লুকিয়ে রাকিব জানায়, দিনে দু’শ থেকে তিনশ’ টাকা আয় করে সে।

মিনিট দশের গল্পে রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, যদি ত্রিশ টাকা আয় করি কুলিদের দিতে হয় ২০ টাকা। আবার ২০ টাকা আয় করলে দিতে হয় ১২ টাকা।

রাকিবের ক্ষোভে একাত্মতা পোষণ করে আরেক ‘স্টেশন শিশু’ ১০ বছরের রুবেল।

কুলিদের টাকা দেয়ার কারণ হিসেবে ও বলে, ‘আমরা এখানকার কুলি না। বড়রা লিস্টেড (তালিকাভুক্ত)। তাই কাম করলে ওগোরে দিয়া করতে হয়।”

রাকিবের মা গাবতলীর যে বস্তিতে থাকেন সেখানে মাঝে মাঝে যায় ও। তবে বাবার কোন খবর জানে না সে। রাকিব বলে, “মাঝে মাঝে মায়ের কাছে যাই। তবে বেশিরভাগ সময় এখানকার বন্ধুদের সঙ্গেই রাতে ঘুমিয়ে পড়ি।”

আয়ের পুরোটা নিজেই খরচ করে সে। তারপরও নাকি হয় না। টান পড়ে। ও বলে, “অনেক খরচ।”

স্ট্যান্ডিং সিট কাটলেও কিছুক্ষণের জন্যে বসতে পারলাম জানলার পাশের একটি সিটে। কারণ তখনো সব সিট পূর্ণ হয়নি। এয়ারপোর্ট, টঙ্গী থেকে উঠবেন অনেক যাত্রী।

ল্যাপটপ খুলে তখন রাকিব আর সুজনের কথা লিখছি। ট্রেন তখন ছাড়া শুরু করেছে। ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। জানলা দিয়ে চোখ বড় করে ল্যাপটপের লেখা পড়ছে ১৩ বছরের সাজ্জাদ। ট্রেন এগোয়, লেখা বাড়ে, সাজ্জাদ দৌঁড়ায় আর পড়ে।

জিজ্ঞেস করি, “পড়তে পারো?” হাসি দিয়ে জানায়, “হ্যা।”

ধীর গতি থেকে গতি বাড়িয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটছে ট্রেন। সাজ্জাদ, রাকিব আর সুজনদের চোখ সেই ট্রেনের পথে ফ্যালফ্যাল করে দৃষ্টি ফেলছে, তবে অজানা গন্তব্যে!

আবার ট্রেন আসলে হাত পাততে হবে সুজনকে। বোঝা বইবার জন্যে দৌঁড়াবে রাকিব আর সাজ্জাদরা!

বাংলাদেশ সময় : ০০৩০ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০১৩
এমএন/সম্পাদনা: হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর-eic@banglanews24.com

সরকার পতনে আরও হরতাল-অবরোধ: খালেদা জিয়া

ছবি: কাসেম হারুণ/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সিঙ্গাইর(মানিকগঞ্জ) থেকে: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এরা জনগণের সরকার নয়। প্রতিনিয়ত পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। এ সরকার খুনী ও জালিম সরকার। এই সরকারের সাথে কোনো আপস নয়। রক্ত ঝরেছে, প্রয়োজনে আরও ঝরবে কিন্তু খুনি সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেনা বিএনপি। এখন একদফার সরকার পতনের আন্দোলন হবে।
১৮ ও ১৯ মার্চ হরতাল দেওয়া হয়েছে। সরকারকে বিদায়ের জন্য আরও হরতাল অবরোধ দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার বিকেলে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের গোবিন্দল ফুটবল মাঠের পথসভা ও চারিগ্রাম এসএ খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই সরকার একটি বিধর্মী সরকার। এরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। এরা মন্দিরে, মসজিদে, গীর্জা প্যাগোডায় হামলা করে।অথচ আমরা আমাদের সময়ে তাদের নিরাপত্তা দিয়েছি, সাহায্য করেছি। এরা ক্ষমতায় থাকলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
এরা গত কয়েকদিনে গুলি করে শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পরই বিডিআর বিদ্রোহে ৫৮জন সেনা হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার করেনি এ সরকার।
বিএনপিকে মুক্তিযোদ্ধার দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মার্চ মাসে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। তাই দেশরক্ষার দায়িত্ব আমাদের বেশি। স্বাধীনতার পতাকা হাতে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহবানও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার সকল ইস্যু চাপা দিতে পুলিশ পাহারায় শাহবাগে নাস্তিকদের মঞ্চ পেতেছে আর ফাঁসি ফাঁসি খেলা শুরু করেছে। সব যুবক না কী শাহবাগে। তাহলে আজকের মানিকগঞ্জের জড়ো হওয়া এরা কী বুড়ো। এখানে যে ছাত্র যুবকদের কথা বলা হচ্ছে তারা যুবকদের অংশ নয়, সরকারের অংশ, এরা দেশের ক্ষতি করছে। এখন দরকার সরকারের পতন। তাহলে মানুষ নিরাপদে চলতে পারবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আমরাও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চাই। কিন্তু এই সরকার শুধু বিএনপি আর জামায়াতে ইসলামীকে ধরে। বিএনপি জামায়াত ছাড়া যুদ্ধাপরাধী দেখে না। নিজের দলের মধ্যে অনেক রাজাকার আছে। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতাযুদ্ধ চলে তখন সে পাকিস্তানীদের চাকরি করে। তাহলে সে কি রাজাকার নয়?

গোবিন্দল ফুটবল মাঠে এক পথসভায় পদ্মা সেতু করতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি করতে চাচ্ছে তা ভাওতাবাজি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না। আমরা পদ্মায় দুটি সেতু করবো। আপনাদের দাবি মানিকগঞ্জ থেকে পদ্মা সেতু করা। সেজন্য আমি বলেছি পদ্মা সেতু হবে দুইটা। একটা আরিচা-দৌলতদিয়া আর একটা মাওয়া দিয়ে।

সরকারকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সরকার দুর্নীতিবাজ। এরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে। শেয়ার মার্কেট, হলমার্ক, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কারণে দাতা সংস্থারা আর টাকা দিচ্ছেনা। জনগণের উন্নয়নের জন্য নয়, সরকার চুরিতে ব্যস্ত।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এখানে গণহত্যা হয়েছে, বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল করে প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে হাজির করা হবে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া যেমন গাছের পাতাও নড়ে না, তেমনি প্রশাসনের কোনো কাজ প্রধানমন্ত্রীর হুকুম ছাড়া হয় না।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গুলি বন্ধ করুন, নয়তো এর প্রতিদান পেতে হবে। জনগণ বসে বসে মার খাবে গুলি খাবে আর মসনদে বসে আপনারা উপভোগ করবেন তা হবে না।

খালেদা জিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতা সেখানকার গডফাদার মেধাবী ছাত্র ত্বকীকে হত্যা করেছে। ত্বকীর বাবা মেয়র নির্বাচনের সময় আইভির জন্য কাজ করেছেন, এজন্যই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো কেন শামীম ওসমান বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের কোম্পানি ভারত থেকে কম দামে না হয় বিনামূল্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিটামিন ক্যাপসুল এনেছে, যা খেয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়েছে। আবার অনেকে মারা গেছে। এই হলো সরকারের কাজ। তারা গুলি করে মানুষ মারছে আবার মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ খাওয়ায়েও মানুষ মারছে।

নিহতদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকে কোনো সভা করতে আসিনি। পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা দিতে এসেছি। আমরা শুনেছি তাদের কি নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই সরকার খুনী ও রক্ত পিপাসু, তাই এরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন মায়ের বুক খালি হবে।বোনেরা স্বামী হারা হবে। ছেলে-মেয়েরা পিতৃহারা হবে। তাই আমাদের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আন্দোলন করতে হবে।

সরকারের নানা সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে এই সরকার। তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। চৌধুরী আলম, ইব্রাহিম মৃধাকে তারা হত্যা করেছে। এই সরকার মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারছে। গত কয়েকদিনে পুলিশ বাহিনী দিয়ে ১৭০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেজন্য তাদের বিচার হবে। আমরা এভাবে মানুষকে মরতে দিতে পারি না।

খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার নির্বাচনের আগে অনেক ওয়াদা দিয়েছিল। দশ টাকায় চাল খাওয়াবে, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। কোনো কিছুই করেনি। চাল, ডাল তেল লবন সব জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এই সরকারের অনেক গুণ আছে। ৭৪ সালে তারা দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেছিল। তখন লাখ লাখ লোক না খেয়ে মড়েছে। তারা মানুষ মারতে ওস্তাদ। ৭২-৭৫ সালে রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল।

সিঙ্গাইর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ মুজাহারুল হক মোহরের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন হারুন অর রশীদ খান মুন্নু, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, সিঙ্গাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঈনুল ইসলাম শান্ত, নির্বাহী কমিটির সদস্য আফরোজা খান রিতা।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সেলিমা রহমান, সাদেক হোসেন খোকা, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, মানিকগঞ্জ জেলা নাগরিক ফোরামের আহবায়ক সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিল প্রমুখ।

এর আগে তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি হরতাল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত মওলানা নাসিরুদ্দিনের বাড়িতে যান। এসময় তিনি নিহত নাসিরুদ্দিনের মা ফাতেমা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এবং তাদের সমবেদনা জানান।
পরে তিনি একই ঘটনায় নিহত শাহ আলমের মা সহর বানু ও চাচা আবুল কাশেম, নিহত নাজিমুদ্দিনের বাবা মজনু মিয়া ও নিহত আলমগীরের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী রাফেজা বেগম, তাদের দেড় বছরের মেয়ে আঁখি ও বাবা রাজ্জাক মিয়াকেও সমবেদনা জানান। তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে তিন লাখ করে টাকা অনুদান দেন তিনি।এছাড়া আহতদের আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।

শনিবার দুপুর সোয়া দুইটায় তিনি গুলশানের বাড়ি থেকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। আমিনবাজার থেকে সিঙ্গাইর পর্যন্ত রাস্তায় দু’পাশে হাজার হাজার মানুষ ব্যানার ফেস্টুনসহ দাড়িয়ে থেকে খালেদা জিয়াকে অভিবাদন জানান। গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদেরকেও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের আগমন উপলক্ষে গোবিন্দল ও চারিগ্রামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম।
উল্লেখ্য, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী দলগুলোর ডাকা হরতাল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন গোবিন্দল-চারিগ্রাম এলাকার ৪ জন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরো অর্ধশত।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৩ ঘণ্টা, মার্চ ১৬,২০১৩
এমএম/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর eic@banglanews24.com

মারাত্মক রাজনৈতিক সঙ্কটে বাংলাদেশ

মারাত্মক রাজনৈতিক সঙ্কটে বাংলাদেশ পরেছে । এখন বর্তমান সরকারের শেষ বছর। তাই এখন চলছে দমন নিপিরন। বিরধী মিডিয়া অনেকটাই বন্ধ …দেখা যাক এই অবস্থা কত দিন চলে ।

ঈদ আনন্দে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উতসব ইদুল ফিতর।

ঈদের সকালে মুসল্লিদের নামাজ আদায় নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন
সারা দেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রতিবারের মত এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতটি হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। Continue reading

sin, tan, sec ত্রিকোণমিতির এই নামগুলো কোত্থেকে এল

লেখকঃ চমক হাসান

সাইন, ট্যান, সেক-তোমাদের মধ্যে ত্রিকোণমিতির সামান্য জ্ঞান যাদের আছে, তারা সবাই এই নামগুলো চেন। কিন্তু এই নামগুলো কোত্থেকে এল, সেটা কি জানো?  কদিন আগে একটা দারুণ বই পড়ছিলাম ‘Great moments in mathematics before 1650’। সেখানে খুব সুন্দর করে sin এর গল্পটা বলা ছিল। উইকিপিডিয়া ঘেঁটে আরও কিছু শিখলাম। ভাবলাম যা জেনেছি, তোমাদের সাথে ভাগ করে নিই। সে জন্যেই এই লেখা। চলো আগে নামগুলোর আভিধানিক অর্থ জেনে নিই। এই আভিধানিক অর্থ আমি আগেও জানতাম, কিন্তু সেই জানাটাই আসলে আমাকে আরও দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিল!

Continue reading

মানুষের কষ্ট বেড়েছে

মো. কামরুল ইসলাম একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। মাস শেষে বাসায় নিতে পারেন ৩০ হাজার ৮১৫ টাকা। বাসায় ফিরেই এই আয়ের প্রায় অর্ধেক দিয়ে আসতে হয় বাড়িওয়ালাকে। এরপর যা থাকে তা দিয়ে মাসের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। কামরুল ইসলাম অবশ্য খানিকটা ভাগ্যবান। দুই ঈদের বোনাসের বাইরে বছরে আড়াইটা বোনাস পান। তাতে আসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তিনি বললেন, ‘এই টাকা দিয়েই বাড়তি ব্যয় নির্বাহ করার চেষ্টা করি। তা-ও পারি না।’ ব্যয়বহুল এই রাজধানীতে কিছুটা মধ্যবিত্ত সরকারি চাকরিজীবীর জীবনযাপনেরই যখন এই অবস্থা, তখন নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন অনেক বেশি দুর্বিষহ। পান্থপথে একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের হিসাবরক্ষক সাহাদাত হোসেন সাড়ে আট হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে বকশিশ (টিপস) হিসেবে আরও সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো পান। সাড়ে ছয় হাজার টাকা বাড়িভাড়া। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বাবদ ব্যয় আরও এক হাজার টাকা। ডিশ, ময়লা ও পত্রিকার বিল এবং কাজের বুয়ার বেতন দিতে হয় এক হাজার ৬০০ টাকা। তিনজনের সংসারে খাবার খরচে চলে যায় বাকি টাকা। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে কিংবা বাসায় মেহমান এলেই ঘটে বিপত্তি।

Continue reading

বিকৃত মানসিকতা সরকারকে অমানুষিক করে তুলেছে

আগেও বহুবার বলেছি এসব কথা—একাধিক বইতে এবং বহু প্রবন্ধ ও কলামে। নতুন পাঠকদের অবগতির জন্য পুনরাবৃত্তি পুরনো শ্রোতাদের বিরক্তি ঘটাবে না আশা করি।
বিবিসি থেকে ১৯৬৯ সালে ‘পাকিস্তানের রাজনীতি’ শীর্ষক একপ্রস্থ সাক্ষাত্কার প্রচার করেছিলাম। তত্কালীন পাকিস্তানের উভয় দিকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিকের সাক্ষাত্কার নিয়েছিলাম সেজন্য। সেপ্টেম্বরের এক সকালে শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাত্কার নিতে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে যাই। মুজিব ভাই ভোরে ভোরে যেতে বলেছিলেন। ভাবী আমাদের নাশতা খাওয়ালেন। সাক্ষাত্কার ছাড়াও পুরনো পরিচয়ের জের ধরে অনেক কথা হয়েছিল।
তখন জোর জল্পনা-কল্পনা চলছিল যে, পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। সে বছরের জুন মাসে মুজিব ভাই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। বস্তুত গণআন্দোলনের তোড়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সরকার জুন মাসে তাঁকে কারামুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিল। আমি তাঁর নজিরবিহীন জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করি। তিনি বললেন, দেশে লোকে আমাকে চেনে, জানি; কিন্তু বিদেশে তো কেউ আমাকে চেনে না। আমি বললাম, আপনি লন্ডনে আসুন, বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দেবো।
সে বছরের নভেম্বর মাসে তিনি লন্ডনে এসেছিলেন এবং আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলাম। ব্রিটিশ ও বিদেশি মিলে ৪১ সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্কারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম আমি। বিবিসিতে বাংলায় আমি তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাত্কার প্রচার করি। ভাষ্যকার এভান চার্লটনের সঙ্গে তাঁর ইংরেজি সাক্ষাত্কার বিবিসির আরও কয়টি বিদেশি অনুষ্ঠান বিভাগ অনুবাদ করে প্রচার করেছিল।

Continue reading